বিজেপি কর্মীদের খুন করাচ্ছে মমতা : বিস্ফোরক বিজেপি নেতা রাজু বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

14th December 2020 7:34 pm বর্ধমান
বিজেপি কর্মীদের খুন করাচ্ছে মমতা : বিস্ফোরক বিজেপি নেতা রাজু বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়


নিজস্ব সংবাদদাতা ( কালনা ) :  ক্ষমতা দখলের লোভে রাজ্যে একটার পর একটা বিজেপি কর্মীকে খুন করাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর বিজেপি কর্মী শুকদেব প্রামাণিককে খুনের ঘটনা নিয়ে সোমবার এমনই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা রাঢ়বঙ্গের বিজেপির পর্যবেক্ষক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি পূর্বস্থলীর নিমদহ এলাকার বিজেপি কর্মী শুকদেব প্রামাণিকের মৃত্যুর ঘটনারও  সিবিআই তদন্ত এদিন দাবি করেন। দলের কর্মীকে খুনের প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা এদিনও কালনা মহকুমার একাধীক রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভ দেখান।অবরোধ বিক্ষোভের জেরে জেলার একাধীক সড়কপথে যানবাহন চলাচল দীর্ঘক্ষণ থমকে থাকে । 

পূর্বস্থলী  নিমদহ চাঁদপাড়া এলাকার সক্রিয় বিজেপি কর্মী শুকদেব প্রামাণিক (৩৫) দু’দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।রবিবার দুপুরে বাড়ির অদূরের জলাশয় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় ।শুকদেবের মুখ ও মাথার অংশে আঘাতের ক্ষত দেখে পরিবারের লোকজন ও বিজেপি নেতৃত্ব  দাবি করেন শুকদেবকে খুন করে দেহ জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল । ছেলেকে খুনের ঘটনায় এলাকার শাসকদলের লোকজন জড়িত বলে দাবি করে মৃতর পরিবার রবিবারই পূর্বস্থলী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করলেও এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি । তা নিয়ে  ও ক্ষোভে ফুঁষছেন বিজেপি নেতা কর্মীরা ।   


নিহত বিজেপি কর্মী শুকদেব প্রামাণিকের  বাড়িতে বসেই রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন  মুখ্যমন্ত্রীকে এক হাত নেন।তিনি অভিযোগ করেন “বাংলার ক্ষমতা দখলের লোভে একটার পর একটা বিজেপি কর্মীকে খুন করাচ্ছে  মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়। তাই পুলিশী তদন্তের উপরে তাঁদের কোন ভরসা নেই ।পুলিশ জলে ডুবে শুকদেবের মৃত্যু হয়েছে বলে দেখাতে চাইছে।সেই কারণেই তাঁরা  বিজেপি নেতৃত্ব শুকদেব প্রামাণিকের মৃত্যুর ঘটনার সিবিআই তদন্ত চাইছেন।একই সঙ্গে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দেন পুলিশ অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার না করলে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে । বর্ধমান -কাটোয়া রোড সহ রাজ্য জুড়ে অবরোধ বিক্ষোভ শুরু হবে।”  নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন রাজু বাবু । বিজেপির জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত রায় আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ শুকদেবের খুনিদের গ্রেপ্তার না করলে বিজেপি সমগ্র কালনা মহকুমা জুড়ে জঙ্গী আন্দোলনে নামবে।  যদিও তৃণমূলের রাজ্যের মুখপাত্র দেবু টুডু জানিয়েছেন ,“রাজ্য সরকার যে উন্নয়ন কাজ করেছে তার জন্য রাজ্যবাসী ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাইছেন।এই বিষয়টা ভালভাবেই বুঝেগেছে বিজেপি নেতৃত্ব।তাই বিজেপি নেতারা এখন মৃত্যু নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি করা শুরু করেছে ।  তবে এইসব করে কিছু লাভ হবে না । বাংলার মানুষ ওদের যোগ্য জবাব দেবে।  ”





Others News

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) : প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেও মেয়ের জাতিগত শংসাপত্র মেলেনি । আবেদনকারীদের জাতি শংসাপত্র দেওয়ার
ক্ষেত্রে দেরি করা যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে।প্রায় এক বছর আগে  চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে  আবেদন করেছিলেন মা।কিন্তু মেয়ে কে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসলেও জাতি  শংসাপত্র আজও না মেলায় কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির রাধাকান্তপুর নিবাসী ঊর্মিলা দাস।ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য ঊর্মিলাদেবী বৃহস্পতি বার মেমারি ১ ব্লক বিডিও অফিসে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন। শংসাপত্র পাবার জন্য বিডিও সাহেব কি ব্যবস্থা করেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঊর্মিলাদেবী। 

বিডিওকে লিখিত আবেদনে ঊর্মিলাদেবী জানিয়েছেন ,তাঁর স্বামী মানিক দাস দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ।বছর ১০ বয়সী তাঁদের একমাত্র কন্যা গ্রামের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত কালে তাঁর ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী আবেদন করেছিলেন।  উর্মিলাদেবী বলেন ,তার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে  গেলেও তিনি তাঁর মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পান না।মেয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসায় গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি শংসাপত্রের বিষয়ে মেমারি ১ ব্লকের বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে যান।জাতি শংসাপত্র বিষয়ের বায়িত্বে থাকা বিডিও অফিসের আধিকারিক তাঁকে অনলাইনে এই সংক্রান্ত একটি নথি বের করে আনতে বলেন । অনলাইনে সেই নথি বের করেনিয়ে তিনি ফের ওই আধিকারিকের কাছে যান । তা দেখার পর ওই আধিকারিক তাঁকে  ২০ দিন বাদে আসতে বলেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন , তিনি ২৫ দিন বাদে যাবার পর ওই আধিকারিক তাঁকে গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নেবার কথা বলেন । তিনি এরপর গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যান । নথি ঘেঁটে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে কোন ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি।ঊর্মিলাদেবী দাবী করেন ,এই ভাবে তিনি একবার বিডিও অফিস , আবার পঞ্চায়েত অফিসে দরবার করে চলেন । কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য  গত ১৩ ডিসেম্বর ফের তিনি বিডিও অফিসে যান ।ওই দিনও বিডিও অফিসের জাতি শংসাপত্র বিষয়ক বিভাগের আধিকারিক তাঁকে একই ভাবে পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যেতে বলে দায় সারেন। পরদিন তিনি পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে গেলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ফের জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে  ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি । কেন মেয়ের জাতি শংসাপত্র পাচ্ছেন না সেই বিষয়ে  না পঞ্চায়েত না ব্লক প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ কেউই তাঁকে কিছু জানাতে পারেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন ,পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির আগে তার মেয়ে যাতে ওবিসি শংসাপত্র পেয়ে যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য এদিন তিনি বিডিওর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন । মেমারী ১ ব্লকের বিডিও আলী মহম্মদ ওলি উল্লাহ এদিন বলেন ,“জাতি শংসাপত্র পাবার জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে । তবে ঊর্মিলাদেবীর কন্যা দ্রুত যাতে বিবিসি শংসাপত্র দ্রুথ পান সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে “। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য বলেন,’মেমারি  বিধানসভা এলাকার আবেদনকারীরা দ্রুত যাতে জাতি শংসাপত্র পান সেই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলবো’।